নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ ও প্রতিকার

 




হুট করে কোন কারণ ছাড়াই নাক দিয়ে রক্ত পড়া ভয়ের ব্যাপার বটেই। এই সময়ে যে কেউই আপসেট হয়ে যেতে পারেন বা কি কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে ভেবে কূল কিনারা নাও পেতে পারেন। এই সময়ের করণীয় সম্পর্কে না জানা, ভয় পেয়ে চিন্তা করতে না পারাও খুবই স্বাভাবিক। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে এর কারণ ও করণীয় সম্পর্কে আমরা জেনে নিবো। 

এটি কি কমন কোন সমস্যা 

হ্যা, একে কমন একটি সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। কেননা পুরো বিশ্বজুড়ে চালানো গবেষণায় দেখা যায় ৬০% মানুষ জীবনে একবার হলেও এই সমস্যায় পড়েছেন। যার মাঝে মাত্র ১০% মানুষের এ জন্য চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

সাধারণত কাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়

আসলে যে কোন বয়সের মানুষেরই এ সমস্যা হতে পারে। জীবনে একবার হলেও সবাই এ সমস্যায় পরে। তথাপি অনুসন্ধান,তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে কিছু বয়সের ও শারীরিক অবস্থা বিচারে নিন্মোক্তদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। 

 দুই বছর থেকে দশ বছর বয়সী বাচ্চাদের: সাধারণত এই বয়সী বাচ্চারা শুষ্ক আবহওয়ায় অসুবিধা, ঠান্ডা জনিত সমস্যা, অ্যালার্জি থাকায় ও আঙ্গুল নাকে দেবার অভ্যাসের কারণে এই সমস্যা বেশি হবার ঝুঁকির মাঝে থাকে। বাচ্চাদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ এগুলো। 

 পঁয়তাল্লিশ থেকে আশি বয়সের ব্যাক্তিদের: মধ্যবয়সী ও বয়স্কদের রক্ত জমাট বাঁধতে বেশি সময় লাগে। উচ্চরক্তচাপ, এথেরোস্ক্লেরোসিস ইত্যাদি কারণে এদের নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। 

 গর্ভবতী নারীদের: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে তাদের নাকের রক্তনালীগুলো প্রসারিত হয়ে যায়। যার কারণে এ সময়ে হটাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ 

অনেক সময় দেখা যায় সর্দির সাথে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ হয়ে থাকে। এছাড়া আঘাত জনিত কারণে, নাকের কোন সমস্যার কারণ ব্যতীত যদি হটাৎ করেই নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয় তবে একে অন্য কোন সমস্যার প্রত্যক্ষ উপসর্গ বলা যায়। মেডিকেলের ভাষায় নাক দিয়ে রক্ত পড়া রোগের নাম Epistaxis. 

এই Epistaxis (এপিস্টাক্সিস) বা Nosebleed হবার কিছু কারণ সম্পর্কে জানা যায়। যেমন: 

• ইনফেকশন : Epistaxis হবার সবচেয়ে কমন কারণগুলোর একটি হচ্ছে ইনফেকশন হওয়া। ঠাণ্ডা লাগা, সাইনোসাইটিসের সমস্যা থাকা ইত্যাদি কারণে ইনফেকশন হয়ে রক্ত পরে। 

• অ্যালার্জি : পুরো বিশ্বজুড়েই অ্যালার্জি সমস্যায় ভুগছে লক্ষ - কোটি মানুষ। আর এটি হচ্ছে Epistaxis হবার একটি সম্ভাব্য কারণ। 

• মেডিসিন : বিভিন্ন ধরনের মেডিসিন রয়েছে যার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে ব্যাবহারকারীর Epistaxis সমস্যা দেখা দেয়। এ কারণে প্রতিটি মেডিসিন বা ঔষদ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরন করে সেবন করা উচিত। 

• উচ্চ রক্তচাপ : উচ্চ রক্তচাপের রুগীদের সাথে মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্ত আসার ঘটনা ঘটে থাকে। 

• নাকের হাড় বাঁকা থাকা: যাদের নাকের হাড় বাঁকা, তারা অন্যদের থেকে বেশি এ সমস্যায় বেশি পরেন। 

এছাড়ও নাকের মাঝের পর্দা ছিঁড়ে যাওয়া, টিউমার হওয়া, আঘাত পাওয়া, সার্জারি করা ইত্যাদি কারণেও এ সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। 

নাক দিয়ে রক্ত পড়ার চিকিৎসা 

এ সময় কিছু ঘরোয়া ব্যাবস্থা নিলেই রক্ত পড়া বন্ধ করা যাবে। সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতিগুলো হচ্ছেঃ

-নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে নাকে চাপ দিয়ে সামনের দিকে ঝুকে বসে পড়া।

-বৃদ্ধাঙ্গুল ও প্রথম আঙ্গুল দিয়ে নাকের দুই ছিদ্র জোরে বন্ধ করা।

-এইভাবে ১০- ১৫ মিনিট নাক ধরে রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে আরো বেশি সময় চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে।

-এই সময় কপালে ও নাকের চারপাশে বরফ লাগাতে ব্যাবহার করা যাবে। 

-মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেয়ার কাজ করতে হবে।

-টিস্যু/পরিষ্কার কাপড় দিয়ে নাক চেপে ধরে রাখা।

-রক্ত বন্ধ হলে ভারী জিনিস তোলা, নাক নাড়াচাড়া করা বন্ধ রাখতে হবে। 

-অবস্থা বেশি খারাপ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। 

আমদের সাথে যেকোন সমস্যা যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে। সে জন্য পূর্বপ্রস্তুতি রাখা, প্রাথমিক পদক্ষেপ সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে রক্ষা করতে পারে। 




Post a Comment

0 Comments