মশা বাহিত রোগ থেকে রক্ষা করবে যে খাবার

 



বর্ষাকালীন সময়ে আমাদের দেশে প্রতিবছর মশাবাহিত রোগের প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া রোগের প্রভাবে শহরাঞ্চলে শিশু, কিশোর, যুবক, বৃদ্ধদের মিছিল পরে যায় হাসপাতাল গুলোতে। মশা নিধন, নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা বার বার ব্যার্থ। এরূপ অবস্থায় আমরা ভিন্ন ভাবনায় জেনে নিবো দৈনন্দিন সে সকল খাবারগুলোর কথা, যা খেলে মশাবাহিত এসকল রোগ থেকে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে! 


ভিটামিন সি


প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি অন্তর্ভুক্ত করুন। পুষ্টিবিদ নুপুর পাটিলের ভাষায়, ‘ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ফলের মাঝে সাইট্রাস ফল, যেমন- লেবু, কমলা, জাম্বুরা, স্ট্রবেরি, কিউই ইত্যাদি ভিটামিন সি-এর চমৎকার উৎস। এ সকল ফলে ফলে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় ক্ষতিকারক ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ায়। আমাদের শরীরের প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মশাবাহিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে’।


জিঙ্কযুক্ত খাবার


জিঙ্ক মানব শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান। জিঙ্ক শক্তিশালী ইমিউন সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চর্বিহীন গরুর মাংস, মুরগি, শিম, বাদাম এবং বীজের মতো উর্বর পুষ্টিগুণেভরপুর খাবারে প্রয়োজনীয় পরিমাণে জিঙ্ক থাকে। জিঙ্ক ইমিউন কোষ এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সহায়তা করে। যার ফলে শরীর মশা-বাহিত রোগজীবাণুগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করার উপযুক্ত হয়ে উঠে।


ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড


চর্বিযুক্ত মাছ (স্যামন, ম্যাকেরেল, সার্ডিন), ফ্ল্যাক্সসিড এবং আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এর প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ইমিউন কোষের কার্যকারিতা উন্নত করে থাকে।


অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার


অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আঙ্গুর বা বেরি জাতীয় ফল থেকে যেমন পাওয়া যায় তেমনি শাকসবজি থেকেও পাওয়া যায়। শাকসবজির মাঝে পালংশাক, ব্রোকলি ইত্যাদি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এর গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণে কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। শরীরের ইমিউন কোষগুলোর উন্নতি করে যার ফলে মশা থেকে সংক্রামিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে।


রসুন এবং হলুদ


রসুন এবং হলুদ প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাদ্য। রসুনে অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। হলুদে কারকিউমিন, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শরীরের জন্য উপকারী। দৈনিক খাবারে খাবারে এই মশলাগুলো রাখলে এগুলো মশা-বাহিত অসুস্থতার বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করতে পারবে।


হাইড্রেশন


সর্বোত্তম ইমিউন ফাংশন বজায় রাখার জন্য হাইড্রেটেড থাকা অপরিহার্য। পর্যাপ্ত পরিমাণ কলা, নারিকেল পানি এবং দই খাওয়া যেতে পারে। এই খবরগুলো ইলেক্ট্রোলাইট পূরণের সহায়তা করে। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করবেন। এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।


ভিটামিন ডি


শরীরের ইমিউন সিস্টেমের ভাল রাখার ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। খুব সহজেই সরাসরি সূর্যের আলো থেকে এই ভিটামিন নেয়া যায়। এর সাথে সাথে, ফ্যাটি মাছ, সুরক্ষিত দুগ্ধজাত পণ্য এবং ডিমের কুসুম থেকেও ভিটামিন ডি পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া সম্ভব।


বি ভিটামিন


বি ভিটামিন, বি৬, বি৯ (ফোলেট) এবং বি১২ সহ, ইমিউন কোষের বিকাশ এবং কার্যকারিতার জন্য অপরিহার্য উপাদান। শস্য, শাক, মটরশুটি এবং চর্বিহীন মাংস থেকে এই বিভিটামিন পাওয়া যায়।


মশা বাহিত রোগের ক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করা বেশি জরুরি। তাই, এ সকল রোগ প্রতিরোধে সচেতনা ও সঠিক খাদ্য দৈনিক খাদ্য তালিকায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।




Post a Comment

0 Comments