থাইরয়েড ও থাইরয়েড জনিত অসুস্থতা

 




থাইরয়েড (thyroid) শরীরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। যেখান থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়ে থাকে৷৷ এই হরমোন মানবদেহের হজম প্রক্রিয়াকে ক্রিয়াশীল ও কর্মক্ষম রাখে। শরীরে বিদ্যমান থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। থাইরয়েড গ্রন্থি আমাদের গলার সামনের দিকে প্রজাপতির মতো থাকে। 


থাইরয়েডট কী?


থাইরয়েড হচ্ছে মানব শরীরের এন্ডোক্রাইনিক গ্রন্থি, যেখান থেকে হরমোন উৎপন্ন হয়। হরমোন আমাদের শরীরের খাদ্য হজম প্রক্রিয়াকে ক্রিয়াশীল রাখে। প্রত্যেক দেহেরই একটি রেগুলেটরি সিস্টেম রয়েছে। দেহের রেগুলেটরি সিস্টেম হিসেবে ধরা হয়ে থাকে ব্রেইনকে। একজন ব্যক্তি কী চিন্তা করছেন, কী ভাবছেন, সেটা নির্ধারণ করছে ব্রেইন। আমরা যে খাবার খাই, তা দেহের ভিতরে গিয়ে শক্তি তৈরি করছে। ফলে আমাদের দেহের ভেতরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আর এসকল বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে থাইরয়েডের হরমোন। এথেকে বোঝা যাচ্ছে, থাইরয়েড আদতে কোনো রোগ নয়। বরং থাইরয়েড হচ্ছে এক ধরনের গ্রন্থি। এর অবস্থান আমাদের গলার নিচে এবং এটি দেখতে প্রজাপতির মতোন হয়ে থাকে। 


থাইরয়েড থেকে আমাদেক দেহে হরমোন তৈরি হয়। সেই হরমোনগুলো আমাদের দেহের ভিতরের পাচক প্রক্রিয়া বা রেগুলেটরি সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে। 


থাইরয়েড জনিত অসুস্থতা 


আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতন এর থেকেও অনেক রোগ হতে পারে। থাইরয়েড আমাদের শরীরের হরমোন তৈরি করে। আর হরমোন যখন তৈরি হয়, তখন এই হরমোনগুলোকে নির্ধারণ করা হয় টি-থ্রি  ও টি-ফোর নামে। টি-ফোর হচ্ছে থাইরক্সিন এবং টি-থ্রি হচ্ছে ট্রাইডোথাইরোনাইন। এই দুই হরমোন দেহের বিভিন্ন প্রক্রিয়া সংঘটিত করে। 


বিভিন্ন কারনং এই দুই হরমোনের কম বা বেশি হতে পারে। যদি কখনও দেখা যায় হরমোন বেশি বেশি তৈরি হচ্ছে তখন থাইরয়েড একটি রোগ হিসেবে একে অবহিত করা হয়। যার নাম হাইপারথাইরয়েডিজম। আবার যদি কখনও হরমোন কম তৈরি বা উৎপন্ন হয়, তখন একে হাইপো-থাইরয়েডিজম বলে অবহিত করা হয়।


আমাদের শরীরে এই দুটি হরমোন তৈরি করে। কিন্তু, এই দুটি হরমোন তৈরি করার জন্য একটি রেগুলেটরি সিস্টেম রয়েছে। সেই সিস্টেমটা আরেকটি হরমোন যা কিনা এ দু'ধরণের হরমোন তৈরিতে প্রভাব বিস্তার করে। কখন কম বা বেশি হবে, এই প্রভাব বিস্তার করে। 


মজার বিষয় হলো, এই হরমোন কিন্তু থাইরয়েড তৈরি করে না! বরং এই হরমোন তৈরি করে ব্রেইনের পিটুইটারি নামক এক ধরনের গ্রন্থি। সেই পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে আরেকটি হরমোন তৈরি হয়, যাকে অবহিত করা হয় থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH) নামে। অধিকাংশ মানুষের ধারণা এর উৎপত্তি থাইরয়েড থেকে। তবে, বাস্তবতা হচ্ছে এর উৎপত্তি ব্রেনের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে। এই পিটুইটারি গ্রন্থি কখন আবার টি-থ্রি  ও টি-ফোর নামক হরমোন তৈরি হয় হবে, সেই সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করে। 


থাইরয়েড যেকোনো শরীরে বা যেকোনো অঙ্গে ক্যানসার বা নুডল হতে পারে ও ফুলে যেতে পারে। থাইরয়েড গ্রন্থি যখন ফুলে যায়, তখন একে গলগণ্ড বা গয়টার বলা হয়। আবার কখনও কখনও এতে ছোট ছোট গোটা বা টিউমার হতে পারে। এই টিউমার থেকে ক্যানসার বা নরমাল টিউমার হতে পারে। আরেক ধরনের রোগ হতে পারে, যেটাকে থাইরয়েড ইনফ্লাশন বলে। এর ফলে ফুলে গিয়ে ব্যথা হতে পারে।


কোন বয়সে থাইরয়েড বেশি হয়? 


থাইরয়েডের সমস্যা হবার আদতে নির্দিষ্ট কোনো বয়স সীমা নেই। প্রাপ্তবয়স্ক থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সে এই রোগ হতে পারে৷ নবজাতকের ক্ষেত্রেও থাইরয়েডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে, বেশিরভাগ সময় মাঝ বয়সে থাইরয়েডের সমস্যা বেশি দেখা দেয়।’ 


  

Post a Comment

0 Comments